Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

শিরোনাম
৭০ ফুট চওড়া মহেশ খাল এখন ৭ ফুট!
বিস্তারিত

দখলে, দূষণে ও খননের (ড্রেজিং) অভাবে সংকুচিত হতে হতে চট্টগ্রাম নগরবাসীর নিত্য দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মহেশ খাল। ‘প্রথম দুঃখ’ চাক্তাই খালের পর এই খালটিই এখন এখানকার মানুষের ‘দ্বিতীয় দুঃখ’।বাংলাদেশ ভূমি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, খালটি জায়গাবিশেষে ৭০ ফুট পর্যন্ত প্রস্থ হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও এর প্রস্থ ৭ থেকে ১৩ ফুট। দুই দিকে অনেক দখলদার এবং দূষণের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর, ডবলমুরিং ও হালিশহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খাল।সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী নদী থেকে এই মহেশ খালের উৎপত্তি। প্রায় দেড় কিলোমিটার পর এই খালের একটি শাখা নিমতলা এলাকায় এসে শেষ হয়। এটি পুরোনো মহেশ খাল নামে পরিচিত। আরেকটি শাখা কাট্টলীতে এসে কাট্টলী খালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলেছে, এটি মূল মহেশ খাল।   বাংলাদেশ সার্ভে (বিএস) অনুযায়ী পুরোনো মহেশ খালের নিমতলা অংশের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ফুট। প্রস্থ ৭০ ফুট থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছে ১০ ফুটের মতো। একই অবস্থা মূল মহেশ খালেরও। হালিশহরের ছোট পুল এলাকার অংশে খালের প্রস্থ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ থেকে ১৫ ফুটে। খালে বিশাল অংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে কাঁচা, সেমিপাকা বসতঘর ও পাকা বহুতল ভবন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মহেশ খালের নিমতলা, ভূঁইয়ারচর, হালিশহরের ছোট পুল ও বড় পুল এলাকায় খালের দুই পাড় দখল করে কাঁচা, সেমিপাকা ও পাকা দালান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া দখলের উদ্দেশ্যে খালের অন্যান্য অংশে বর্জ্য ফেলে ভরাটের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সবচেয়ে বেশি অংশ দখল হয়েছে পুরোনো মহেশ খাল। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে স্থানীয় বাসিন্দা খয়রাতি মিয়া ওরফে খয়রাতি মাঝি এখানে দখল-প্রক্রিয়া শুরু করেন। তাঁদের দখল করা জায়গায় গড়ে ওঠা বসতিতে প্রায় দুই হাজার মানুষ বাস করছে। 

খালের জায়গা দখলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন খয়রাতি মাঝির বংশধরেরাও। তাঁর নাতি মোরশেদ, ইব্রাহিম ও মো. ইছাক প্রথম আলোকে জানান, খালের কিছু অংশ তাঁদের দখলে আছে। সবচেয়ে বেশি জায়গা আছে তাঁদের অন্য চাচাতো ভাইদের কাছে। সরকার চাইলে এসব দখলকৃত জায়গা ফিরিয়ে দিতে রাজি আছেন বলে জানান তাঁরা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ সারোয়ার উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৮ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী খালের পাড় থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত জায়গায় কোনো ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয় না। তবে অনেকেই এই নীতিমালা লঙ্ঘন করে ও খালের পাড় দখল করে বাড়িঘর তৈরি করেছেন।’ নিমতলা এলাকায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন বুলবুলি বেগম। আর ১০ বছর ধরে আছেন নূরজাহান বেগম। তাঁরা বলেন, খাল আগে এ রকম ছিল না। এখান দিয়ে নৌকা চলত। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালের বিশাল এলাকা ভরাট করে ঘর তুলেছেন।

সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মন্জুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, মহেশ খাল সংস্কার ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দাতা সংস্থা জাইকা সমীক্ষা চালিয়েছে। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত মহেশ খালের অংশে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।

ছবি
ডাউনলোড